শেখ মো: বেলায়েত হোসেন: রাজধানীর বাসাবো, খিলগাঁও, রামপুরা, বনশ্রী ও বাড্ডার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব এলাকায় নতুন করে কিছু অপরাধচক্র সক্রিয় হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করলে মূল পৃষ্ঠপোষকেরা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, অপরাধের শিকার হলেও অনেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে ভয় পান। তাঁর দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের যোগাযোগের কারণে ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে খিলগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা ও বনশ্রী এলাকায় সুজন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাঁকে স্বাধীন রুমী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন।
বনশ্রীর একটি জমি কেনাবেচা প্রতিষ্ঠানে সুজন ও তাঁর সহযোগীদের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। ব্যবসায়িক বিরোধে প্রতিপক্ষকে চাপ প্রয়োগ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুজনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে হাবিব নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, সুজনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি জমি বিক্রির লেনদেনে তাঁর পাওনা ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। দীর্ঘদিনেও ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে অপরাধে কিশোরদের ব্যবহারকারী প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষকদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
Leave a Reply